» সিলেটে বিবাহ বিচ্ছেদ কম

প্রকাশিত: ০৯. ফেব্রুয়ারি. ২০২৪ | শুক্রবার

দেশে বিয়ের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকও। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং বনিবনার অভাব বিচ্ছেদের মূল কারণ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

গবেষণা বলছে- দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সিলেটে কমেছে বিবাহবিচ্ছেদ। তবে দীর্ঘদিন স্বামীরা বিদেশে থাকায় স্ত্রীদের মাঝে দেখা  দিচ্ছে অসন্তোষ, ফলে ঘটছে তালাকের ঘটনা।

 

 

গবেষণায় উঠে এসেছে- বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদ হয়েছে ঢাকা বিভাগে, কম ময়মনসিংহ বিভাগে। বনিবনার অভাবে বিবাহবিচ্ছেদ বেশি বরিশালে, কম সিলেটে। ভরণপোষণ দিতে সমর্থহীনততার কারণে রাজশাহীতে বিবাহবিচ্ছেদ বেশি, এটি কম চট্টগ্রামে।

 

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন এক জরিপ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটির নাম বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস–২০২২। জরিপ প্রতিবেদনটি গত ৩১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়।জরিপটি তিন লাখের বেশি পরিবারের মধ্যে পরিচালিত হয়।

 

 

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে সাধারণ বিয়ের হার ছিল ২৫%-এর কিছু বেশি। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি ১,০০০ মানুষের মধ্যে ওই বছর যত জনের বিয়ে হয়েছে, সেটা সাধারণ বিয়ের হার। এই হার ২০২১ সালে ছিল ১৮.৫%।

 

জরিপে নারী ও পুরুষরা প্রথম বিয়ে কত বছর বয়সে করেছেন, তার একটি গড় হিসেব তুলে ধরা হয়। বিবিএস বলছে, পুরুষের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২৪ বছর। নারীর ক্ষেত্রে তা ১৮.৪ বছর। শহরে পুরুষ ও নারীদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স একটু বেশি, গ্রামে কম।

 

 

২০২২ সালে সাধারণ বিয়ের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোভিড মহামারিকালীন অর্থনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার যোগসূত্র দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ২০২০ ও ২১ সালের ধাক্কা অনেকটা কাটিয়ে ওঠার পর ২০২২ সালে বিয়ের হার বেড়েছে। গ্রামে এ হার বেশি।

 

 

বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক হওয়া মানুষের নিবিড় সাক্ষাৎকার নিয়ে জরিপটি করা হয়েছে। ফলে এই জরিপের মাধ্যমেই বিচ্ছেদের আসল কারণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

 

 

জরিপে উঠে আসে পারিবারিক চাপে বিবাহবিচ্ছেদ বেশি ময়মনসিংহে, কম ঢাকায়। নির্যাতনের কারণেও বিবাহবিচ্ছেদ বেশি হয়েছে ময়মনসিংহে, কম রাজশাহীতে। যৌন অক্ষমতা বা অনীহার কারণে রংপুরে বিবাহবিচ্ছেদ বেশি হয়েছে। বরিশালে এক্ষেত্রে হার শূন্য। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় তালাকের ঘটনা বেশি ঘটছে সিলেটে।

 

 

[hupso]